img

পারমাণবিক চুল্লি কিভাবে কাজ করে ?

img

বাংলাদেশ একটি দ্রুত-বর্ধনশীল ও অধিক জনসংখ্যার একটি দেশ, যেখানে বিদ্যুৎ উৎপাদন অন্যতম একটি প্রধান চ্যালেঞ্জ। এজন্য জনসংখ্যার চাহিদা মেটাতে প্রতিনিয়ত বাড়ছে জ্বালানির চাহিদা। বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদনের বেশিরভাগ অংশ আসে জীবাশ্ম জ্বালানি ও নবায়নযোগ্য শক্তি থেকে। তবে দীর্ঘমেয়াদী এবং টেকসই বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে পারমাণবিক শক্তি হতে পারে একটি কার্যকর সমাধান।

পারমাণবিক চুল্লি কী?

পারমাণবিক চুল্লি (Nuclear Reactor) হলো এমন একটি প্রযুক্তি যেখানে নিয়ন্ত্রিত নিউক্লিয়ার ফিশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ তাপশক্তি উৎপন্ন করা হয়. এই তাপশক্তি ব্যবহার করে পানি বাস্পে পরিণত করা হয়, যা টারবাইন চালিত বিদ্যুৎ উৎপাদন করে। এটি জীবাশ্ম জ্বালানির বিকল্প হিসেবে বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়, কারণ এটি তুলনামূলকভাবে কম কার্বন নির্গমন করে এবং দীর্ঘমেয়াদী শক্তির নিশ্চয়তা প্রদান করে।

বাংলাদেশে পারমাণবিক শক্তির যাত্রা:

বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র বর্তমানে নির্মাণাধীন, যা দেশের বিদ্যুৎ চাহিদা মেটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এটি রাশিয়ার সহযোগিতায় নির্মিত হচ্ছে। ২০১৩ সালে রাশিয়ার রোসাটমে সহায়তায় পানবা জেলায় এটির কাজ শুরু হয়.

একটি পারমাণবিক চুল্লির প্রধান অংশগুলো হলো:

কোর (Core): যেখানে নিউক্লিয়ার ফিশন বিক্রিয়া ঘটে এবং প্রচুর তাপ উৎপন্ন হয়।
মডারেটর (Moderator): নিউট্রনের গতি নিয়ন্ত্রণ করে, যাতে ফিশন বিক্রিয়া কার্যকরভাবে পরিচালিত হয়।

কন্ট্রোল রড (Control Rod): বিক্রিয়ার গতি নিয়ন্ত্রণ করে এবং প্রয়োজনে সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করতে পারে।
কুল্যান্ট (Coolant): উৎপন্ন তাপ শোষণ করে এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য তা ব্যবহার করা হয়। রেডিয়েশন শিল্ড (Radiation Shield): বিকিরণ থেকে সুরক্ষা প্রদান করে।

বাংলাদেশের জন্য পারমাণবিক শক্তির সুবিধা:

টেকসই শক্তি: একবার স্থাপন করা হলে এটি কয়েক দশক ধরে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে সক্ষম। পরিবেশবান্ধব: এটি তুলনামূলকভাবে কম কার্বন নির্গমন করে, যা জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব হ্রাস করতে পারে। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ: এটি দিনে-রাতে সমানভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারে, যা অন্যান্য নবায়নযোগ্য শক্তির তুলনায় বেশি নির্ভরযোগ্য।

চ্যালেঞ্জ ও ঝুঁকি:

নিরাপত্তা: চেরনোবিল ও ফুকুশিমার মতো দুর্ঘটনাগুলো পারমাণবিক শক্তির নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তবে আধুনিক প্রযুক্তির উন্নতির ফলে ঝুঁকি অনেকাংশে কমেছে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা: পারমাণবিক চুল্লি থেকে উৎপন্ন তেজস্ক্রিয় বর্জ্য দীর্ঘমেয়াদী ব্যবস্থাপনা ও সংরক্ষণ প্রয়োজন। প্রাথমিক বিনিয়োগ: পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের জন্য বড় অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগ প্রয়োজন, যা একটি উন্নয়নশীল দেশের জন্য চ্যালেঞ্জ হতে পারে।

ভবিষ্যতের সম্ভাবনা:

বাংলাদেশে পারমাণবিক শক্তির সফল বাস্তবায়ন দেশের বিদ্যুৎ খাতে বিপ্লব ঘটাতে পারে। এটি শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদনেই নয়, শিল্পোন্নয়ন ও গবেষণাতেও সহায়ক হবে। তবে এটি নিশ্চিত করতে হবে যে যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং দক্ষ জনবল গড়ে তোলা হচ্ছে।

পারমাণবিক শক্তি বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাবনা, যা দেশের বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণে কার্যকরী হতে পারে। তবে, এই প্রযুক্তি নিরাপদ এবং দক্ষভাবে পরিচালনার জন্য প্রয়োজন যথাযথ পরিকল্পনা ও সতর্কতা। ভবিষ্যতে বাংলাদেশ কি পারমাণবিক শক্তির মাধ্যমে একটি টেকসই বিদ্যুৎ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারবে? সেটাই এখন দেখার বিষয়!

0 comments